নিয়ামতপুরে মুকুলে ভরা আম গাছ বাগান মালিকদের বাম্পার ফলনের আশা

0
12

 

নিয়ামতপুর( নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ মুকুলের ভারেই যেন ভেঙ্গে পড়বে আমের ডাল। মুকুলে ঠাসা আমগাছ হঠাৎ দেখলে এমন ভয়ও জাগতে পারে। কিন্তু এ ভয়ের আড়ালে যে সুখবর হাসে! নিয়ামতপুরে এখন যে দিকে চোখ যায় শুধু মুকুল আর মুকুলের অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্য। পাগল করা মুকুলের গন্ধ আবহমান বাংলার স্বর্গীয় রূপ মেলে ধরেছে নিয়ামতপুরে। এতে দারুন আশাবাদী আম চাষী, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

তাদের আশাবাদ, আমের ফলন এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ইতিমধ্যে কোন কোন গাছে মুকুল ঝরে আমের গুটি আসতেও দেখা গেছে। জেলার নিয়ামতপুরের সর্বত্রই এই সুসংবাদের হাতছানি।
অন্যদিকে আমের তৃতীয় স্থান অর্জনকারী জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় বেড়েই চলেছে আমের চাষ। গত কয়েক বছর ধরে নিয়ামতপুরে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আম চাষ। এক হিসাবে মতে, গত আট বছরে নিয়ামতপুরে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে তিনগুন। সেই সাথে উৎপাদনও বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশী।

এবারও আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে রেকর্ড পরিমানে। তাই উৎপাদনেও স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এ বছর। চলতি বছর নিয়ামতপুরে আম চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১শ ৩০ হেক্টর জমিতে। আর আম উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫শ ৬০ মেঃ টন। এটিও স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী লক্ষ্যমাত্রা। তবে আম গাছে যে পরিমান মুকুল এসেছে, তাতে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে রেকর্ড পরিমান আম উৎপাদন হবে বলেও আশা করছে কৃষি বিভাগ।
নিয়ামতপুরে আমকে কেন্দ্র করে আজ পর্যন্ত কোন আড়ৎ না হওয়ায় আমচাষীরা বেকায়দায় পড়ে। পোরশা, রাজশাহী, নওগাঁ সদর, সাপাহারে আম বিক্রির জন্য গেলে আমচাষীরা নায্য দাম পায় না। তার উপর অতিরিক্ত পরিবহন খরচ পড়ে যায়। আমচাষীদের প্রাণের দাবী নিয়ামতপুরে আমের আড়ৎ যেন হয় সে জন্য সরকারী পৃষ্টপোষকতায় জায়গা প্রদান করা। এছাড়া নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার এলাকায় আমসহ বিভিন্ন সব্জি সংরক্ষনের জন্য কোল্ড ষ্টোরেজ একান্ত প্রায়োজন। মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।
নিয়ামতপুরে প্রায় শতাধিক জাতের আম উৎপন্ন হয়। তবে এবার ন্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালিভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লক্ষনা, ও মোহনভোগ জাতের আম বেশী চাষ হয়েছে। গাছে গাছে বাহারী জাতের আম এখন দেশের কোটি কোটি মানুষের রসনা মেটাতে প্রস্তুত হচ্ছে। সব ভেবে চাষীদের মনে উঁকি দিচ্ছে মুনাফার আগাম বার্তা। গাছের মুকুল কীটপতঙ্গের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষীরা। আম চাষী আব্দুর রহিম জানান, আমগাছে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, সার ও সেচ প্রদানসহ গাছের পরিচর্যা ছাড়া আমচাষীদের এখন অন্য কিছু করার ফুসরত নেই। মুকুলে ডায়াথেন এম ও কনফিডর পরিমানমত পানিতে মিশিয়ে ¯েপ্র করা হচ্ছে, যেমন মুকুলে কোনো ধরণের পোকার আক্রমন না হয়। আবার গুটি ধরার পর আরেক দফা প্রয়গ করা হবে।

আম চাষী রসুলপুর ইউনিয়নের সদস্য ও ভীমপুর গ্রামের মোঃ শহিদুজ্জামান তরফদার কাজল জানান, আমার ১৫ বিঘা আম রূপালী গাছের বাগান রয়েছে। ৩ বছর মেয়াদী লিজ দেওয়া রয়েছে। ৩ বছরে ১৫ লক্ষ টাকা। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। কয়েকদিন আগে নিয়ামতপুরসহ আশে পাশে কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। এতে কিছুটা মুকুল ও আম গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।। তবে এই মুহুর্তে শিলা বৃষ্টি হলে আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে বর্তমানে শঙ্কিত রয়েছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে এবার বাম্পার ফলন হবে বলেও জানান তিনি।
আরেক আমচাষী হাজিনগর ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর গ্রামের এ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম জানান, আমার ৫০/৬০ বিঘা জমিতে আম বাগান রয়েছে। বেশীর ভাগই আম রূপালী জাতের। কিছু ন্যাংড়া গাছ রয়েছে সেগুলোর মাথা ছেঁটে দেওয়া হেয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আমি বাগানে সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবার মুকুল খুব ভালো হয়েছে। অবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো আশা করছি। মুকুল থেকে আম ফুটে বের হলে বাগান বিক্রি করে দেই। এতে ভালোই লাভ হয়। মুকুল পুরো ফোটার আগে গাছে ডায়াথন এম ও কনফিডর পরিমানমত পানিতে মিশিয়ে  এসপ্রে করায় মুকুলে কোনো ধরণের পোকার আক্রমন না হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার আমীর আব্দুল্লাহ মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, এ বছর নিয়ামতপুরে ৬শ ৬৫ আম বাগানে ১ হাজার ১শ ৩০ হেক্টর জমিতে আমগাছে ১০০% আমের মুকুল এসেছে। আগামী দিনগুলোয় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এখান থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৫শ ৬০ টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে গাছে কোনো পোকার আক্রমন দেখা দিলে নির্ধারিত মাত্রানুযায়ী কীটনাশক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবারে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আম উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। বর্তমানে উপজেলায় আম নিয়ে কোন সমস্যা নেই।

ভবিষ্যতেও যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া আর কোন সমস্যা না হয় সেদিকে আমরা সবসময় নজর দিচ্ছি। এছাড়া নিরাপদ আম উৎপাদনের জন্য ফল ব্যাগিং এবং ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্চে।

এ বিষয়ে উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা সফিউল ইসলাম কান্টু বলেন, আমরা মাঠে মাঠে আম চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে থাকি। ইতি মধ্যে সকল আম গাছে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ¯েপ্র করা হয়েছে যাতে আমের মুকুলের কোন রোগ বালাই না হয়। আমাদের উপজেলায় কোন সমস্যা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here