রোহিঙ্গাদের জীবনমান দেখতে ভাসানচরে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল

0
12

এবি এম ফয়েজ- উর রাহিম পাবেলঃ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা নিপীড়ন ও গণহত্যার মুখে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজার ও এর আশপাশের অঞ্চলসমূহে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার একটি বড় অংশকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে নেয়া হয়েছে।

সেখানে পরিবেশ-পরিস্থিতি ও স্থানান্তরিত রোহিঙ্গারা কেমন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, তা দেখতে প্রথমবার ভাসানচরে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলেন জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে জাতিসংঘের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে দুপুরের দিকে ভাসানচরে পৌঁচায়।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার কাজে যুক্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এ দলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গেল মাসে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি প্রতিনিধিদল ভাসানচরে গিয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের  প্রতিনিধিদলটি তিনদিন ভাসানচরে থাকবে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো তারা ঘুরে ঘুরে দেখবে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের বিষয়ে তারা খোঁজখবর নেবে। সেইসঙ্গে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও তারা কথা বলবে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও এর বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে সৃষ্ট সামাজিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে (প্রায় ১ লাখ) নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গেল ২ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে, তার সঙ্গে জাতিসংঘের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা নিপীড়ন, গণধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও ও গণহত্যার মুখে নতুন করে ৭-৮ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে আশ্রয় নেয়। এরপর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও নিজেদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে না মিয়ানমার।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here