ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ইবাদত বন্দেগিতে মগ্ন

0
3

এ বি এম ফয়েজ-উর- রাহিম পাবেলঃ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবেবরাত। মহিমান্বিত এই রজনীতে পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে ও অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বিশ্বের মুসলমানেরা বিশেষ মোনাজাত করছেন। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতটি মুসলমানেরা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। পবিত্র শবে বরাত মাহে রমজানেরও আগমনী বার্তা দেয়।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘পবিত্র শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বাদ মাগরিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াজ মাহফিল শেষে বাদ এশা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব যাতে রক্ষা পায় ও নিরাপদ থাকে সেজন্যও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লি অংশ নেন।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য মহিমান্বিত ও বরকতময় এক রজনী এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সারা মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। তিনি বলেন,‘মাহে রমজান ও সৌভাগ্যের আগমনী বারতা নিয়ে পবিত্র লায়লাতুল বরাত আমাদের মাঝে সমাগত। উপমহাদেশে শবেবরাত প্রধানত সৌভাগ্য রজনী হিসেবে পালিত হয়। মানব জাতিকে এই পবিত্র রজনী আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়। পবিত্র শবেবরাত সবার জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়। শবেবরাতের এই পবিত্র রজনীতে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা জানাই। সৌভাগ্যমন্ডিত পবিত্র শবেবরাতের পূর্ণ ফজিলত আমাদের উপর বর্ষিত হোক।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও করোনা সংক্রমণের হার বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। তিনি বলেন, তাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণকে করোনার ছোবল থেকে রক্ষা করা। আর এজন্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাই আসুন আতঙ্কিত না হয়ে করোনা মোকাবিলা করি। পরম করুণাময় আল্লাহতালা বিশ্ববাসীকে এ মহামারি থেকে রক্ষা করুন।

শবেবরাত উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সব স্তরে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসুন, সব প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সব স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, মানবজাতির জন্য সৌভাগ্যের এই রজনী বয়ে আনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত ও বরকত। এ রাতে আল্লাহপাক ক্ষমা প্রদর্শন এবং প্রার্থনা পূরণের অনুপম মহিমা প্রদর্শন করেন।

পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস বর্তমানে সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা জনগণকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

এই মহামারিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইবাদত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে বিপদের এ সময় বিশেষ দোয়া করি যেন এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here