মশার দখলে রাজধানী – দি‌শেহারা মানুষ

0
2

এ বি এম মশিউর রাহিম নবেলঃ প্রবাদ আছে, “সতীনের কথা সয়না গায়, মশার কামড় সয়না পায়”। আবার এই ক্ষুদ্রকায় মশাকেই আমরা হরহামেশা অতি তাচ্ছিল্যের উপমায় ব্যবহার করি। কিন্তু ছোট্ট মশাটিও যে দুঃশ্চিন্তার বড় কারণ হতে পারে ঢাকাবাসীর চেয়ে সেটা ভালো আর কে বুঝবে। এই মশার কারণেই দিশেহারা এখন নগরবাসী। দিনরাত কানের কাছে এই মশার ভনভন আওয়াজ। যেন মশার রাজত্ব চলছে ঢাকার প্রতিটি এলাকায়। মশক নিধনে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও কিছুতেই যেন দমানো যাচ্ছে না মশার উপদ্রব।

সন্ধ্যা নামলেই মশার আক্রমণে অস্থির হয়ে উঠছে নগরবাসী। মশারি ও কয়েল জ্বালিয়েও বেপরোয়া মশার হাত থেকে রেহাই মিলছে না। এ অবস্থায় দুই সিটির সব প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশন যে কেমিক্যাল ব্যবহার করছে, তাতে ভেজাল থাকায় মশা মরছে না। তাই নগরবাসীর মশা প্রতিরোধে এখন একমাত্র ভরসা মশারি। কিন্তু চলার পথে কিংবা কর্মস্থলে তো আর মশারি ঝুলিয়ে চলা যায় না।

সরেজমিনে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকার পীর ইয়ামেনী মার্কেটের নিচ তলায় গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক কারিগর দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মশারি তৈরিতে।

এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নগরজুড়ে মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় মশারির চাহিদা অনেক বেড়েছে। সেই চাহিদা মেটাতে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।

মশারির কারিগররা  বলেন, ‘আগে মশারি বানানোর এই কাজ আমরা দুই মাস করতাম। কিন্তু এবার মশার উৎপাত দেখে এবং মশারির চাহিদা দেখে মনে হচ্ছে, কয়েক মাস কাজ করতে হবে।’

তারা  বলেন, ‘আমরা এক একজন প্রতিদিন ষোলটি মশারি বানাতে পারি, এবং বানাচ্ছি। তারপরেও মানুষের যে চাহিদা সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। শুধু যে আমরাই মশারি বানাচ্ছি তা নয়। এখানে আরও একশতর মত কারিগর মশারি বানাচ্ছে।এছাড়াও ঢাকা শহরে আরো অনেক জায়গায় এরকম কারখানা আছে।’

তারা আরও বলেন, ‘আমাদের এখানের অবস্থা দেখে আমি বলছি এবছর মশারির চাহিদা প্রচুর। আর তার জন্যই আমাদেরকে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে।’

প্রতিটি মশারিতে কত টাকা পান, জানতে চাইলে তারা  বলেন, ‘মশারি প্রতি আমাদেরকে ৫০ টাকা মজুরি দেয়া হয়। দিনে ষোলটি মশারি তৈরি করি।’

সেখানকার এক কারখানার মালিক ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘আমি সারা দেশে মশারি সাপ্লাই দেই। সারা বছরই মশারি বিক্রি হয়। কিন্তু এবছর শুধু ঢাকা শহরে মশারি সাপ্লাই দিতেই হিমশিম খাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার কারখানায় ৫০ জন কারিগর আছে। দিনে একজনে ১৪ থেকে ১৬ টি মশারি তৈরি করতে পারে। তারপরেও চাহিদা মতো সাপ্লাই দিতে পারছি না।’

রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট, গুলশানসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় প্রায় ৮-১০ ধরনের মশারি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ম্যাজিক মশারির। মশারির পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও দাম অনেকটাই কম।

মশারির পাইকারি বাজারে ছোট বাচ্চাদের জন্য প্রতিটি সিঙ্গেল মশারি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সিঙ্গেল মশারি বড়দের জন্য পাইকারি দর ১৫০-১৮০ টাকা। ৪-৫ হাত মশারির দাম ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা।

ফাহিমের কারখানা থেকে মশারি কিনতে আসছেন রাজধানীর রায়েরবাজার থেকে আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আমি রায়ের বাজারে কাপড়ের দোকান করি। রাজধানীতে প্রচুর পরিমাণ মশা হওয়ার কারণে, মশারির চাহিদা ব্যাপক ভাবে বেড়েছে।তাই কাপড়ের চেয়ে মশারির দিকেই আমি নজর দিচ্ছি বেশি।

গুলিস্তানের ফুটপাত এর মশারি দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে, সেখান থেকে রুবেল নামের একজন মশারি কিনছেন তিনি  বলেন, ‘মশার যন্ত্রণায় ঘরে বাইরে থাকা মুশকিল। দিনের বেলায়ও মশরি টানিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু মশা মশারিও মানে না। ফাঁক পেলেই মশারির ভিতর ঢুকে আক্রমণ চালায়।’

তিনি বলেন, ‘গতবছর শুধু কয়েল জ্বালিয়ে থাকতাম। কিন্তু এ বছর মশা‌রি ছাড়া চল‌ছে না।’

এছাড়া উত্তরা, তুরাগ,  গুলশান, বসুন্ধরা, খিলগাঁও, বাসাবো, ফার্ম‌গেট, যাত্রা‌বা‌ড়ী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই মশার রাজত্ব। সেখানকার মানুষও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ। মশার কামড় থেকে রেহাই পেতে সরকারে যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here