করোনায় বিএনপি যাদের হারিয়েছে, যারা আক্রান্ত

0
3

এ বি এম ফয়েজ-উর- রাহিম পাবেলঃ দেশে মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আরও প্রবল হয়ে উঠেছে। করোনার সেই অভিঘাত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও কালো ছায়া ফেলেছে। প্রাণঘাতি এ ভাইরাসে বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার মৃত্যুর খবর এরইমধ্যে পেয়েছে মানুষ। নতুন করে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ বাড়ার চলমান এই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উপরের সারির একাধিক নেতা করোনার সঙ্গে লড়ছেন। এমনকি তাদের কারও কারও অবস্থা বেশ অবনতির দিকে। করুণাহীন এই করোনা যেন চ্যালেঞ্জিং সময়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবেও আরও কিছুটা দুর্বল করে দিচ্ছে।

সম্প্রতি প্রাণঘাতি এ ভাইরাসে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, করোরায় আক্রান্ত হয়ে গেল এক বছরে দলটির অন্তত ৪৪০ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত আছেন শতাধিক নেতা এবং তাদের বেশিরভাগই সপরিবারে আক্রান্ত।

বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী করোনা পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে দলটির সকল সাংগঠনিক সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর আগেও গেল বছর করোনাকালীন টানা প্রায় ৬ মাসের মত বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। বছরের শেষ দিকে সংক্রমণ কমে আসায় এবং পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার পর আবারও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করে। তবে এরইমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করায় খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারেনি দলটি। দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গেল বুধবার (৩১ মার্চ) দলের সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়। সংক্রমণ এড়াতে জনস্বার্থে গেল মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচিও স্থগিত করে দলটি।

বিএনপির সিনিয়র যেসব নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য জেষ্ঠ্য সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ডা. এ কে এম আজিজুল হক, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও দলটির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান সেলিম, সাবেক ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুল, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, অ্যাডভোকেট ফারহানা শারমিন পুতুল প্রমুখ।

এরমধ্যে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে স্থানান্তর করা হয়েছে আইসিইউতে। গত বুধবার (৩১ মার্চ) অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া ক’দিন আগেই সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেন। এই দম্পতিও স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন ও তার স্ত্রী রিফাত হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার সৃষ্টি এবং দুই মেয়ে জান্নাতুল ইসি সূচনা ও অপরাজিতা খানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান সেলিমও সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হলেও তারা আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ আছেন। বাসায় থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ও তার মা, স্ত্রী, বোন এবং দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সবার অবস্থা উন্নতির দিকে।

করোনার এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি গঠিত “জাতীয় করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সেল” আবারও জনগণের মাঝে কাজ শুরু করেছে। এই সেল দলের চিকিৎসার কার্যক্রমসহ দলের ত্রাণ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি সরকারের কোনও তথ্যের গরমিল থাকলে তারা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরবে। গত বছর এপ্রিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে উপদেষ্টা ও আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা হয়।

সেলের আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খুবই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের পর্যবেক্ষণ সেলের কাজও আমরা আবার শুরু করেছি। দলের সব সাংগঠনিক সম্পাদকদের বলা হয়েছে খোঁজখবর নেয়ার জন্য।’ দলের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলের নেতাকর্মীরা এবারও মানুষের পাশে দাঁড়াবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর করোনা ভাইরাসে বিএনপির অন্তত ৪৪০ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- দলটির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আওয়াল খান, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা কাসেমী, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি লায়ন মো. কামাল উদ্দিন, বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি আহমেদ সাজা, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য অ্যাডভোকেট কবির চৌধুরী, জাতীয় ট্যাক্সসেস বার সভাপতি অ্যাডভোকেট গফুর মজুমদার, শ্রমিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক মোল্লা, শ্রীপুর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী শহীদুল্লাহ শহীদ, পল্লবী থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান, আমেরিকার বোস্টন বিএনপি ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মিতোষ বড়ুয়া, সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন সরকার ও এটি এম আলমগীর প্রমুখ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here