সপ্তাহব্যাপী সারাদেশে লকডাউন শুরু

0
15

এ বি এম ফয়েজ-উর- রাহিম পাবেলঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ ৫ এপ্রিল (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন চলবে ১১ এপ্রিল (রবিবার) পর্যন্ত।
রবিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (৩ এপ্রিল) সংক্রমণ মোকাবিলায় সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দেন ওবায়দুল কাদের।
ওই ঘোষণার পরপরই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের এই লকডাউন সোমবার অথবা মঙ্গলবার শুরু হতে পারে। জনগণকে প্রস্তুতি নেবার সুযোগ দেয়া হবে। অনেক লোক বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আটকে থাকতে পারে, তাদের স্ব স্ব স্থানে ফেরার সুযোগটা দিয়ে একদিন পর লকডাউন দেয়া হচ্ছে।’
এদিকে দেশের এক সপ্তাহ লকডাউন শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ আজ সোমবার থেকে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচলও বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার। তবে পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা, জ্বালানি, ওষুধ, পচনশীল দ্রব্য ও ত্রাণবাহী পরিবহন, সংবাদপত্র, গার্মেন্টস সামগ্রী পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ দেশের অধিকাংশ পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। এদিন থেকে অভ্যন্তরীণ রুটেও বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। ৩১ মার্চ থেকে গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ১ এপ্রিল থেকে নৌপথেও অর্ধেক যাত্রী পবিবহন কার্যকর হয়। অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার নির্দেশনা কার্যকরে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছর ২৩ মার্চ প্রথমবার ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ছুটি’ ঘোষণা করেও পরে দফায় দফায় সেই মেয়াদ মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেসময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ছুটির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকায় সেই পরিস্থিতি ‘লকডাউন’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
কিন্তু টানা সাধারণ ছুটির কারণে নিম্নবিত্তের জীবন-জীবিকা ও দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা অস্তিত্ব সংকটে পড়লে বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে সরকার ৩১ মে’র পর থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করতে থাকে। বছরের শেষে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আর সবকিছুতেই কড়াকড়ি উঠে যায়।
গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর টানা কয়েক মাস করোনার আক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি ক্রমে শিথিল হয়ে আসতে থাকে। তবে গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আর মহামারী এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউনের ঘোষণা করে সরকার।
এদিকে, লকডাউনের খবর জানার পরেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করে হাজার হাজার মানুষ। নিম্নবিত্তের লাখো মানুষ সপরিবারে বাসে ট্রেনে লঞ্চে করে ঢাকা ছেড়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here