চিকিৎসক-পুলিশের এমন পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয়- হাইকোর্ট

0
7

এ বি এম মশিউর রাহিম নবেলঃ  চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি এমন বিবৃতি দেয়া সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট ।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
ওই দিনের ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুই বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘প্রশাসনের লোকেরা জনগণের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করবে এমনটি আমরা প্রত্যাশা করি।’
এর আগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ ওই দিনের ঘটনা এবং দুই সংগঠনের বিবৃতির বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করে রিট করার অনুমতি চান। এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘ওই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়া সমীচীন হয়নি। তাদের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়।’
আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘গতকাল আপনি এ বিষয় নিয়ে এসেছিলেন। আপনি তো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। আপনি কেন এসেছেন?’
তখন আইনজীবী ইউনুছ আলী বলেন, ‘আমার মেয়ে একজন চিকিৎসক। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও চিকিৎসক রয়েছে।’
এ সময় আদালতে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলও ওই দিনের ঘটনাকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উভয় পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে বলেন আদালত।
আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনকারী আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম। আমি এগ্রিভড (সংক্ষুব্ধ) নই বলে রিটের অনুমতি দেয়নি আদালত। তবে আদালত এ বিষয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তারপরও আমি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করব। আমার মেয়ে চিকিৎসক। সে হিসেবে আমিও এগ্রিভড।
এ ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশ যে বিবৃতি দিয়েছে, তা তারা দিতে পারেন না। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নামে তারা যে সংগঠন করেছেন, তা তারা করতে পারেন না। সরকারি চাকরি করে সেই সরকারি সংস্থায় আবার কিসের সংগঠন। এটা চ্যালেঞ্জ করে আমি রিট দায়ের করব।’
লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠন সোমবার পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ।
অন্যদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here