নাচোলে ঝড়-বৃষ্টিতে তলিয়েগেছে জমির ধান

0
2

এ্যানীঃ  চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গত বুধবার সন্ধায় হঠাৎ ঝড়ো বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী হাসি, মাঠে নেই কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা। টানা ১ঘন্টার ঝড়ো বৃষ্টিতে উপজেলার কাঁচা-পাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। প্রায় ১৪হাজার ৬শ’ ২৬হেক্টোর মাঠজোড়া বোরো ধানের ৯০শতাংশ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে কাঁচা-পাকা বোরে ধান নষ্ট হওয়ার পথে। উপজেলার হাঁকরইল গ্রামের কৃষক সাজাহান আলী জানান, এনজিওতে প্রায় ৩০হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৬বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। তিনি আশা করেছিলেন এ বছর বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০মন দরে ফলন হতো। আর মাত্র ৪/৫দিন পরেই ধান কাটতে লাগতো। কিন্তু বুধবার সন্ধার সময়ে ঝড় ও বৃষ্টিতে সব ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন বিঘাপ্রতি ৪/৫মন কম হবে। পানীতে পড়ে থাকা নীচের ধান পচে, গজিয়ে ও মাটির ভাপে নষ্ট হয়ে যাবে। হরেক মালের ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ রেখে হাঁকরইল গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির আলম এনজিও থেকে ৩০হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাড়ে ৭বিঘা কটচুক্তিতে অন্যের জমিতে আবাদ করছিলেন। কিন্তু বুধবার সন্ধা ৭টার দিকে ঝড়-বৃষ্টিতে তার ৭বিঘা ধান মাটিতে লেপটে পড়ে গেছে। তার বুকভরা স্বপ্ন আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। একইরকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সূর্যপুর গ্রামের বর্গাচাষী আতিকুল ইসলাম তার ৯বিঘা জমির ঝড়েপড়া ধানের জমির আইল কাটাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাত্র ৫দিন পরেই পাকা ধান কাটতে পারতো তার ধান। কিন্তু মাত্র একঘন্টার ঝড় ও বৃষ্টিতে আতিকুল পথে বসতে পারেন। তার ঋণের বোঝা আবারও মাথায় চেপে থাকলো। হাকরইল গ্রামের সুনিল শিং ৭বিঘা জমিতে বর্গাচাষী হিসেবে বোরো আবাদ করেছিলেন। অনেক টাকা ঋণ নিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় সাড়ে ৮হাজার টাকা হিসেবে প্রায় ৬০হাজার টাকা খরচ করে এক ঘন্টার ঝড়ো বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে তার সোনালী স্বপ্ন। এখন শুধুই চিন্তা তার ঋণের বোঝা কি দিয়ে পরিশোধ করবেন ? প্রাকৃতিক দূর্যোগে কারো হাত নেই, কিন্তু এতবড় দূর্যোগের পরও উপজেলা কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায়নি বলে কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহাম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার প্রায় ২০০জন কৃষকের মাঝে প্রনোদনার সার ও ধানবীজ বিতরণের দিন ধার্য আছে তাই তিনি ও তাঁর উপ-সহকারীগণ মাঠে যেতে পারেননি।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে,চলতি বোরো মৌসুমে ৮হাজার, ৫শ’ ৮৫ হেক্টোর জিরাশাইল, ব্রী-৫১, ৯২,৮৯, ৮১, বাঁশমতি ও কিছু স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। তবে রবি মৌসুমের ফসল উঠিয়ে উপজেলায় মোট প্রায় ১৪হাজার ৬শ’ ২৬হেক্টোর জমিতে ধানের আবাদ করেছেন কৃষকরা। ধার্যকৃত আবাদ থেকে প্রায় ৯০হাজার মেট্রিকটন ধান থেকে প্রায় ৬০হাজার মেট্রিকটন চাউল উৎপাদের রক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু বুধবারের জড়ো বৃষ্টিতে ফলনের রক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবেনা বলে কৃষকরা আশংকা করছেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here