কর্তব্যপরায়ণ ও মানবিকতায় ডিএমপির তুরাগ থানার ওসি মেহেদী হাসান

0
41816

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ  ভালো মন- মানসিকতা,  বিচার বুদ্ধি,  মূল্যবোধ ও উদার মন,  ইচ্ছা শক্তি এবং দায়িত্ব কর্তব্যকাজে মনোযোগী হওয়া,  তার অধিনস্তদের কর্তব্যকাজে একদিকে কড়াকড়ি শাসন অন্যদিকে ভালবাসা দেওয়া,  নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করাটা খুবই কঠিন কাজ । অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে যে এ কাজ গুলো করে তার ইউনিটকে জ্ঞানের মাধ্যমে শৃঙ্খলভাবে রাখতে পারেন তিনিই হচ্ছেন কর্তব্যপরায়ণ মানবিক গুণাবলীর অধিকারী । সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করা এবং মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি অতি সহজেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই হচ্ছে মানবিকতা । মানবিকতার মূলমন্ত্র হচ্ছে মানুষের কল্যাণ, জাতির কল্যাণ, সমাজের কল্যাণ, সাংস্কৃতিক কল্যাণ মোট কথা মানুষকে ভালভাবা, আপন করে নেওয়া,  মানুষের জন্য ভাল কিছু করা এবং মানুষের উন্নতি সাধন করার নামই মানবিকতা । গত বছর করোনার কারণে ৬৬ দিন দেশে লকডাউনের সময় অনেক পুলিশকে দেখেছি তাদের ব্যক্তিগত ভাবে অসহায় গরীব মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে । মানুষের সেবা করতে গিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবির মতো বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন । দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর লেখালেখির  জীবনে আমার চোখে অনেক কিছুই দেখেছি । খুব কাছ থেকে দেখেছি মানবিকতা,  অমানবিকতা,  নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা,  কঠোরতা ও ভালাবাসা দেয়া । আজকের এ লেখাটি বলতে পারেন পুলিশকে নিয়ে । পুলিশ সদস্যরা দিন রাত মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতন্দ্রপ্রহরীর মতো কাজ করে । জনগনের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকেন । তারা আমাদের সেবা দিচ্ছে বলেই আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি,  চলতে পারছি, কর্মজীবনে, ব্যবসা বাণিজ্যে সবকিছুইতেই বলতে গেলে স্বাধীনভাবে চলছি । শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে । পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর পেশাদারিত্ব দিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন । সমস্যা বিপদ আপদ হলেই আমরা পুলিশের সাহায্য নিচ্ছি । পুলিশ এসে আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে । আবার কোন কোন মানুষের ব্যক্তি স্বার্থহানি হলে পুলিশ নিয়ে বিরুপ মন্তব্যও করে থাকেন হরহামেশা,  হয়তো না বুঝে না শুনে নিজের স্বার্থ না পেয়ে এটা করে থাকেন যা মোটেই সমীচিন নয় । পুলিশের হাতে গোনা দু একজন সদস্যের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর বদনাম কোনভাবেই হতে পারেনা । হাতে গোনা দু একটা ছিটেফোটা ও বিচ্ছন্ন ঘটনার জন্য পুলিশ ও পুলিশকে আইনের দিক দিয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেয়না যেটা আমরা অবলোকন করছি । একটু চোখ মেলে খুঁজলেই দেখতে পারি পুলিশের অসংখ্য সুনাম খ্যাতি এবং অবদান রয়েছে যা লিখে শেষ করা যাবেনা । পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা । দীর্ঘ ৯ মাস জুড়ে দেশব্যাপী গেরিলা যুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে । যুদ্ধে ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলে দেখতে পাওয়া যায় । একজন ন্যায় নিষ্ঠাবান কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ অফিসার হিসেবে ব্যতিক্রম নন ডি এম পির তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান । তিনি গেল বছরের অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখে  অফিসার ইনচার্জ  হিসেবে যোগদান করেন  ডি এম পির তুরাগ থানায় । আর এই থানায় যোগদানের পর থেকে  প্রতিনিয়তই মানুষের কল্যাণে কাজ করে মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন । বদলে দিয়েছেন এই থানার চিত্র । অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে থানার  সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে সুশৃঙ্খল থানায় পরিনত করতে সক্ষম হয়েছেন । থানাকে মানুষের সেবাস্থলে রুপ দিয়েছেন বলে জানালেন এলাকাবাসী । ওসি মেহেদি হাসান তার অধিনস্ত সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের কড়াকড়ি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বলেছেন  টাকার পিছনে ছোটা যাবেনা,  ন্যায় নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, মানুষকে সেবা দিতে হবে । সরকার মাস শেষে আমাদের বেতন দিচ্ছে সেই বেতনে যদি কোন পুলিশ সদস্যের না হয় তবে এ থানা থেকে স্বেচ্ছায় চলে যেতে পারেন । অবৈধভাবে টাকা কামানোর নেশা বাদ দিয়ে মানুষের সেবা করেন নতুবা এখানে থাকা যাবেনা বলে কড়াভাবে হুঁশিয়ারী করেছেন । গত ৬ মাসে অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে একাধিক মাদক কারবারি, ডাকাত, ছিনতাইকারী,  চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন তুরাগ থানা পুলিশ । ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার করেছেন, বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করেছেন । এলাকার মানুষের নির্বিঘ্নে  চলাচলের জন্য সার্বিক পুলিশী টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে পুরো থানা এলাকাকে উপযোগী করে তুলেছেন । এদিকে করোনার কারণে(গত ৫ এপ্রিল ২০২১ ) থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী  চলমান লকডাউনের সময় ওসি মেহেদি হাসান তার  থানা এলাকার  চেকপোষ্ট গুলোতে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে চেকপোষ্ট পরিচালনা করেছেন । তিনি লকডাউনে  কড়াকড়ি আরোপ করায় এ অঞ্চলে লকডাউন সফলভাবে পালিত হচ্ছে । লকডাউনে দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষদের আর্থিক ভাবে  সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন । তিনি বলেন,  জনগনের জানমাল রক্ষাকল্পে, সড়ক দুর্ঘটনা, দস্যুতাসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষনিক পুলিশী টহল অব্যাহত রেখেছি । মাঠ পর্যায়ে  দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তুরাগ অঞ্চলের বাসিন্দাদের  যথেষ্ট সহযোগিতাও পাচ্ছি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here