গ্রামীণ জনপদে সর্বোচ্চ সেবাদানে অগ্রসৈনিক তথা প্রানভোমরা হচ্ছেন-ইউপি সচিব

0
14

আমাদের দেশের প্রায় সব নেতাঁ-মন্ত্রীদের কণ্ঠে শোনা যায় দেশকে সুখী সমৃদ্ধিশালী করতে স্থানীয় সরকারের উন্নয়নের কোনো
বিকল্প নেই। এর কারণ হচ্ছে, উন্নয়নের শুরুটা হয় গ্রামাঞ্চল থেকে, যেখানে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ লোক বসবাস করে। আর এই
গ্রামাঞ্চল পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে আদি এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ দ্বারা।
আজ দেশ যখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাঁল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছে, প্রায় প্রতিটি জায়গা (ইউনিয়ন পরিষদসহ) ডিজিটালাইজেশনের আওতাঁভুক্ত হচ্ছে, তখন ইউনিয়ন পরিষদ চলছে সেই মান্ধাতাঁর আমলের সঙ্গে তাঁল মিলিয়ে। নয়জন গ্রাম পুলিশ, একজন দফাদার আর দাপ্তরিক কাজের জন্য একজন ইউপি সচিব—এই নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। এই এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, যাকে এক হাতে হাজারটা কাজ করতে হয়।
বাংলাদেশের ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের ৪৬টি বিভাগের বিভিন্ন কাজসহ ইউনিয়নের নিজস্ব হাজারো কাজ যেমন বিভিন্ন ধরনের সনদ প্রদান, কর আদায়, গ্রাম আদালত পরিচালনাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ। এ ছাড়া, বছরে বিভিন্ন ধরনের কয়েকটি অডিট নিষ্পত্তিসহ সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ধার্যকৃত বিভিন্ন ধরনের আদেশ পালন করতে হয়। এই যে এত কাজ এক হাতে বাংলাদেশের আর কোনো কর্মচারী বা কর্মতাকে করতে হয় কি না, আমার জানা নেই।
আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, স্থানীয় সরকারে আরও লোক নিয়োগ দেওয়া হোক, কিন্তু তাঁ শোনার যেন কেউ নেই। আর একটা ব্যাপার অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশের ইউপি সচিবেরা হচ্ছেন অতিমানব বা সুপারম্যান। কেননা, ইউনিয়ন পরিষদের সব দাপ্তরিক কাজই তাঁদের করতে হয়৷ সুপারম্যান ছাড়া এত কাজ এক মানুষ একা কীভাবে করতে পারেন, তাঁ চিন্তাতার বিষয়৷ দ্বিতীয়ত, আমাদের কর্তাতব্যক্তিদের ধারণা, ইউপি সচিবদের খাওয়াদাওয়া তথা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে হয় না। আর তাঁই তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত বেতন দেওয়া দূরে থাক কখনো দুই মাস, কখনো তিন মাস, চার, মাসেও বেতন হয় না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবিনয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আপনার ভিশন টোয়েন্টি ওয়ান সফল করতে এই আমরা ইউপি সচিবেরা প্রথম সারির যোদ্ধা। কারণ, আমাদের দিয়েই আপনার উন্নয়ন কার্যক্রমের শুরুটা হয়। কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে পিঠে সইবে কেমন করে।  তাঁরা কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন। এই অভুক্ত মানুষদের পেছনে রেখে আপনার ভিশন টোয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়ন কখনো সম্ভব নয়। তাই সচিবদের দৃৃষ্টি  রাখুন গ্রামীণ জনপদের উন্ননয় অব্যহত রাখতে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here