নওগাঁর কিশোর তুষার শরীরে ১ শ’ সেলাই নিয়ে রামেক-এ চিকিৎসাধীন-গ্রেফতার ৪

0
2

 

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহাদৎ হোসেন তুষার (১৮) নামের এক কিশোর এর উপর হামলা চালিয়ে মারপিট ও কুপিয়ে মারান্তক জখম করেছে প্রতিপক্ষ কিশোররা। রক্তাক্ত ও মারান্তক জখম অবস্থায় শাহাদৎ হোসেন তুষার বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় ছটফট করছেন, তার মাথা ও মুখ-মন্ডল সহ শরীরের একাধীক স্থানে ১শতও বেশি সেলাই দিতে হয়েছে। দাঁত ভেঙ্গে গেছে তার ৩ টি দাঁত বলে জানিয়েছেন তার মা। ঘটনার পরেদিন গত ৩০ জুন শাহাদৎ হোসেন তুষারের মা ইসমতরা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরই নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।

মামলা সুত্রে জানাগেছে, পূর্ব-বিরোধের জেরধরে গত ২৯ জুন দিনগত রাত পনে ১০ টারদিকে নওগাঁ জেলা শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় পাকা রাস্তার উপর শাহাদৎ হোসেন তুষারকে একা পেয়ে প্রতি পক্ষের মাসুদ রহমান ওরফে আরমান (২৩), হনাইফা তানভির (১৭), সিফাত সাদিক (১৬), ফজলে রাব্বী (১৬) সহ ২০/২২ জন দেশিয় অস্ত্র চাপাতি, চাকু, লাঠিদিয়ে এলোপাতারিভাবে মারপিট শুরু করলে এসময় রক্তাক্ত গুরুতর জখম তুষার জীবন বাঁচাতে চিৎকার দিতে থাকলে ঘটনাস্থলে থাকা সোহেল রানা (২৩) ও স্পন্দন চৌধুরী (২৭) সহ লোকজন এগিয়ে এসে তুষারকে দ্রুত নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়। এরপর দায়িত্বরত চিকিৎসক তুষারকে রামেকএ রেফার্ড করলে রাতেই স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

এব্যাপারে তুষার এর মা ইসমতরা আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় রামেক থেকে মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, আমার ছেলেকে এলোপাতারিভাবে মারপিট সহ মাথা, মুখ-মন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপানোর কারনে ১শ’ এর ও বেশী সেলাই দিয়েছেন চিকিৎসকরা, এছাড়া ৩ টি দাঁতও ভেঙ্গে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমার ছেলে যন্ত্রনায় ছটফট করছে, আমি ন্যায় বিচার চাই। এব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল প্রতিবেদককে জানান, মারপিটের ঘটনায় তুষার নামে এক কিশোর জখম অবস্থায় রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন থাকায় তার মা বাদি হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার পরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছেন, এছাড়াও অপর আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এব্যাপারে তরুন সমাজ সেবক ও জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিকুর রহমান মামুন সোস্যাল মিডিয়া তার নিজের ফেসবুক আইডিতে জখমের ছবি ও ভিডিও সহ নিম্নের লিখাটি পোস্ট দেওয়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। এমনকি সংবাদ লিখার সময় পোস্টটিতে ২৫৩ লাইক, ৪৬ বার সেয়ার সহ ৮৮ টি কমেন্ট লিখে মতামত প্রকাশ করেন ফেসবুক ব্যবহারকারিরা, তবে বেশির ভাগ কমেন্টকারী-ই ঘটনার বিচার দাবি করে কমেন্ট লিখেন।

(পোস্টটি নিচে হবুহু তুলে ধরা হলো)
ছোট ছোট অপরাধ ছাড় দিলে বড় ধরনের অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় তা প্রমাণিত হলো। এমন নৃশংসতা নওগাঁতে আর দেখতে চাইনা। রাজনীতির চর্চা বাদ দিয়ে যারা অপরাজনীতিতে লিপ্ত যারা নিজ দলের নেতা কর্মীর রক্ত ঝরায় তাদের বিরুদ্ধে দৃ‌ষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হোক। পৌর ছাত্রলীগ নেতা তুষার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এই দোয়া করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here