বাগমারায় সাংবাদিকদের নাম ভাঙ্গিয়ে শিক্ষকের চাঁদাবাজি শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

0
166

 

বাগমারা প্রতিনিধিঃ
গত ২৭ জুলাই ২০২১ ইং তারিখে বাংলাদেশ পোস্ট.কম এবং ভোরের আভা অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিক নিউজটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। উক্ত ভিভ্রান্তমূলক নিউজে আমার মতামত নিম্নরূপ।
আমি মোঃ হাফিজুর রহমান, পিতাঃ মৃত মনির উদ্দিন আহম্মেদ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পাকুডিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। গ্রাম- মির্জাপুর বিরহী, বাগমারা, রাজশাহী।
আমি ১৯৯৪ ইং সালে বিএ,বিএড কোর্স সম্পূর্ণ করে নিজের মেধা, অর্থ ও পরিশ্রম ও এলাকার লোকের সহযোগীতা নিয়ে মুগাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্থর করে সুনামের সহিত অদ্যাবধি প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছি এবং এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজ বিদ্যালয় স্থাপন, বরেন্দ্র ডিপকল, বিদ্যুৎ আনায়ন, মসজিদ নির্মাণ, মাদ্রাসা পরিচালনা, ঈদগাহ তৈরী এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্যে অনেক কাজ করে আসছি।

গত ঈদুল ফিতরের পরের দিন অত্র গ্রামের চাকরিজীবি, ব্যবসায়ী, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক এলাকার সকল শ্রেণি পেশার লোকদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে আমাকে গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সম্মানীত সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
অত্র গ্রামের রহিম উদ্দিন শাহ এর ২য় পুত্র মোঃ বারি শাহ শিক্ষিত বেকার যুবক। সে অত্র গ্রামের ৫/৭ জন বখাটে ছেলেদের হাতকরে দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে অত্র গ্রামের মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ, মসজিদের নামে জমি নিয়ে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। তার প্রতিবাদ করলে তিনি হামলা মামলা করার ভয় ভিতি দেখান।

গ্রাম উন্নয়ন কমিটিকে কেন্দ্র করে আমার সাথে বিভিন্ন কাজে তাঁর মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। তাঁর সমর্থিত প্রার্থী সভাপতি না হওয়ায় অত্র গ্রামে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কার্যক্রম হাতে নিয়ে, আমাকে জিম্মি করে বিভিন্ন ভাবে চাঁদা আদায়ের পাঁয়তারা করে আসছেন।
আমাকে ঘায়েল করার মানসে রাজশাহীর কয়েক তথাকথিত সাংবাদিককে খবর ও স্থানীয় কিছু বখাটে, অশিক্ষিতদের ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করাই তাঁর কাজ।

ক) মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঘর উপহার বিষয়ে আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে যে, অভিযোগ তার বাস্তবতা হলো- বিরহী মৌজায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৩টি বাড়ি উপহার দেয়া হয়। তার মধ্যে একজন হলেন মোঃ আলাল উদ্দিন, পিতা- ময়েজ উদ্দিন। বারি টাকার বিনিময়ে আলাল উদ্দিনের সাথে গোপনীয় ভাবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ঘর পাইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। আর আমার সাথে যোগাযোগ না করলে ঘর পাবেন না। । এছাড়াও তাঁকে বিভিন্ন ভাবে ফুঁসলিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং দলীয় চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে আলালের কাছে খেকে ৮০,০০০/-টাকা দাবী করেন।
আলাল তাঁর পৈতৃক ২ শতাংশ ভিটা মাটি বিক্রি করে বারির হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয়। উক্ত বিষয়টি লোক সমাজে জানাজানি হলে বাড়ির মালিক মোঃ আলাল উদ্দিন লিখিত অভিযোগ আকারে গ্রাম প্রধান হিসেবে আমার কাছে দাখিল করেন।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে ঘরোয়া এবং গ্রামের প্রধানদের নিয়ে সালিশে বসলে প্রমানাদিসহ সাক্ষির মাধ্যমে আব্দুল বারি শাহ স্বীকার করেন যে, আমি অন্যায় ভাবে তারে কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছি। তিনি শালিশের মাধ্যমে টাকা ফেরৎ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বিষয়টি ব্যাপক ভাবে জানাজানি হলে কয়েক জন সাংবাদিক আসেন।
তার মধ্যে উল্লেখিত সাংবাদিক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ভিক্টর আসামী বারির কাছে যায়। সর্ব শেষে আমার সাথে দেখা করেন এবং কিছু সম্মানী চান। অত্র গ্রামের মাতবর মোঃ আলাউদ্দিন সরদার, মোঃ সামসুল হক, মোঃ বেলাল হোসেন তাঁদের সম্মতিক্রমে বারির জরিমানার টাকা থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা দিয়ে আমার বাসায় আপ্যায়ন অন্তে সাংবাদিকদের বিদায় করা হয়।
সাংবাদিক চপলকে ম্যানেজ করার নামে পাঁচ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
খ ) দুর্যোগ ও আশ্রয়ন প্রকল্পের দুর্নীতি সম্পর্কে আমার (একাংশ আমার স্কুলের শ্রেণি কক্ষ হিসাবে ব্যবহার হবে ) বক্তব্য হলো- ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ভিত্তি প্রস্তুর হওয়ার পর থেকে রমযান মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত বিধি সম্মতভাবে প্রকল্পটির কাজকর্ম চলছিল। হঠাৎ রমযান মাসের ২৭ তারিখে সাংবাদিক চপল, আব্দুল বারি শাহ, জামাল, মোজাফর শাহসহ আরও কয়েকজন এসে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ করে দেয়। অফিসের লোকজন ও মিস্ত্রি কাজ করে চলে যায়।
সাংবাদিক মুঠোফোন দিয়ে আমাকে জিঙ্গেস করলে আমি কাজ ভাল হচ্ছে বলে জানাই। আমি সহ আমার শিক্ষকদের নিয়ে কাজ বুঝেনিই। তবে আমি বলি প্রথম ঢালাইয়ের দিন বালির মান খারাপ থাকায় কাজ বন্ধ করে ভাল বালি দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিই। ঢালাই করতে আলো স্বল্পতার কারণে কাজের মান সামান্য খারাপ হতে পারে। সাংবাদিক চপল আমাকে আলাদা করে দেখা করার কথা বলেন।

আমি দেখা করলে সাংবাদিক ও বারি সহ ৭/৮ জন বখাটে মাস্তান, ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। আমি ঠিকাদারকে উক্ত টাকার কথা জানালে তিনি টাকা দিতে রাজি হননি। সর্বশেষে উনি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক ও বারির বাহিনীদের ম্যানেজ করতে বলেন। কিন্তু তাঁরা বলেন, আমাদের চাঁনরাত পালন করতে ২০ হাজার টাকা লাগে। তাঁরা টাকা না নেওয়াই প্রতিষ্ঠানের প্রকশৌলী সাদ্দাম হোসেনকে উক্ত টাকা ফেরৎ দেয়া হয়। তাঁদের দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা ঠিকাদার আমাকে দেননি এবং তাঁরাও পাঁচ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করেননি। উক্ত টাকা ম্যানেজারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
গ) ২৬ তারিখ ৯টার দিকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো- আমি অতিষ্ঠ হয়ে সাংবাদিক চপল, বারিসহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দেওয়ার কথা বলেছি। গত ২৫ জুলাই রোজ রবিবার সন্ধ্যায় বারি সহ তাঁর বাহিনী আমাকে আবারও এক মাঠের ধারে ডেকে নিয়ে ওই ৫০ হাজার টাকার দাবী করেন।
টাকা দেওয়া না হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান। পরের দিন সোমবার রাত ৯টার সময় সাংবাদিক চপল আমাকে ফোন করে বলেন যে, তাঁর নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে এবং আপনার গ্রামের লোকদের কাছ থেকে আমার নাম ভাঙিয়ে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
উক্ত বিষয় নিয়ে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয় এবং আমার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন। উক

উক্ত জিডি তদন্তের সার্থে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। আমি না কী বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রীয় ভূমিকা পালন করে থাকি। এই কথাটি ডাহা মিথ্যা। আমার স্কুলের সাইডে বিদ্যালয়ের কাজ পরিদর্শন করার জন্য ৫/৭টি চেয়ার পেতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, প্রাক্তন শিক্ষক, আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, সদস্য মোঃ লাহার উদ্দীন, মোঃ আলাউদ্দিন সরদার, আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সভাপতি সিরাজউদ্দীন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ পরিদর্শন, চা-চক্রের আয়োজন হয়ে থাকে। উল্লেখিত নেতাদের নিয়ে দলীয় মিটিং করি কাথাটা মিথ্যা ও বানোয়াট।

ঘ) ত্রাণের টিন আত্মসাৎ ও ইউএনওর স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে যা পুরোটাই মিথ্যা ,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নাই।

ঙ) অত্র গ্রামের আব্দুস সাত্তারের জমি নিয়ে যা বলা হয়েছে, ১৯৯৪ ইং সালে আব্দুস সাত্তার মুসলিম হাই স্কুলে আবেদন করলে চাকরি নেওয়ার জন্যে টাকার প্রয়োজন হয়। তখন তিনি আমার কাছে সার্বিক সহযোগীতা চান এবং আমার বাড়ির পাশে উক্ত জমি বিক্রির কথা বলেন। তিনি ১ লক্ষ, ৪০ হাজার টাকা দাম মিটিয়ে, ৬০ হাজার টাকা বায়না হিসেবে গ্রহণ করেন। সেই দিন থেকে আমি উক্ত জমি দখল নিয়েছি। তাঁকে বাঁকি টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রির কথা বল্লে তিনি তা করেননি এবং টাকাও ফেরৎ দেননি।
এক পর্যায়ে আমাদের উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। আব্দুস সাত্তার প্রায় ৪/৫বছর আগে উক্ত বিষয় নিয়ে বাগমারা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পেক্ষিতে এসআই আব্দুল করিম এবং কিছু গ্রামের প্রধানদেরকে নিয়ে বিষয়টির ফায়সালা দেয় যে, প্রধান শিক্ষকের টাকা ফেরত দেন অথবা বাঁকি টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। উক্ত রায়টি আব্দুস সাত্তার সাহেব মানেননি, কিন্তু আমি উক্ত রায়কে সম্মান জানিয়ে সম্মতি দিই। জোর পূর্বক জমি দখল কথাটি মিথ্যা ও হাস্যকর।

ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সেক্রেটারি বেলাল হোসেন গ্রাম্য সালীশ আকারে উক্ত বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য প্রধান সামসুল হক, আনিসুর রহমান, ইয়াসিন আলী আরো সম্মানীত ব্যাক্তি বর্গদের নিয়ে উক্ত বিষয়টি আলোচনা প্রর্যালোচনা শেষে সাক্ষী প্রমানাদি যাচাই বাচাই পূর্বক আমাকে দোষী সায়বস্ত করতে পারেনি বা আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
উক্ত অভিযোগটি মিথ্যা। আমি আমার চাচাতো বোনদের কাছে থেকে নগদ টাকায় জমি ক্রয় করেছি। আমার চাচাতো বোনদের জমি সম্পর্কে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই।

সাংবাদিককে হাতে নিয়ে বারিও তার বাহিনী এলাকায় একচেটিয়া প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে আসছেন। এতে এলাকার লোকজন তার কার্যকলাপে অখুশি ও হতাশ। তাঁর অসংখ্য অপকর্মের তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে আগামী তে বাগমারার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে মিডিয়ায় সত্য তুলে ধরা হবে । আমি একজন প্রধান শিক্ষক এবং দেশের সচেতন নাগরিক। এলাকাবাসী ও আমার হাতে গড়া প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের মান খারাপ হোক এটা জ্ঞান থাকতে আমি মেনে নিতে পারি নাই। কতিপয়, তথাকথিত রাজশাহীর সাংবাদিক পরিচয়ে নিরহ মানুষদের কাছে নানা কৌশলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া গর্হিতকর কাজ।

কাজেই মানহানিকর, মিথ্যা সংবাদে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠানের মানক্ষুন্ন করার হীন চেষ্টার প্রতি ঘৃণা জানাই। কাজেই উক্ত মিথ্যা , বানোয়াট, উদ্যেশ্য প্রণোদিত, ভূয়া, সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি ।

প্রতিবাদকারী,
মোঃ হাফিজ আল আসাদ
প্রধান শিক্ষক
মুগাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাগমারা- রাজশাহী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here