ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

0
4

 

মোঃ আনোয়ার হোসেন ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৩ আগস্ট) বিকালে দলীয় কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি গোলাম সোবাহান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৪৬ বছর পর হত্যাকান্ডের সঠিক ইতিহাস বিকৃতি করে খুনের নেপথ্য নায়ক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনের সাথে জড়িত নয় মর্মে প্রকাশ্য জনসভায় মদ্যপানরত অবস্থায় মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেন। যা সম্পর্ন্ন মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। উক্ত সভায় তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তৃতা দেন যা সরকার তথা দলের ভাবমুর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন করেছে।

উক্ত সভায় তিন বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমানের সম্পর্কে অশালীন ভাষায় কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান করেন। তার এই সমস্ত বক্তব্যে ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীগন চরম ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত হয়েছেন। দ্বায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের সংগঠন ও সরকার বিরোধী বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্হে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

আপনারা জানেন, ১৫ই আগস্ট বাঙ্গালী জাতির জীবনে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। এ দিন মহান স্বাধীনতার স্থপতি ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ সপরিবারে সদস্যদের বিপথগামী সেনা সদস্যরা হত্যা করে। সেদিন জিয়াউর রহমানসহ বর্তমান বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত অনেক সেনাবাহিনী এই হত্যাকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। যে কারনে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বিশেষ ইনডেমনিটি বিল পাশ করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মামলাটি স্থগিত করে দেন। এর মধ্য দিয়েই জিয়াউর রহমান। মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার প্রমান দিয়েছে। এরকম একজন দেশদ্রোহী খুনীর পক্ষে সাফাই গেয়ে রক্তাক্ত ১৫ই আগস্টে দুনট উপজেলা আ’লীগ সভাপতি টিআইএম নুরুন্নবী তারিক বঙ্গবন্ধুর পরিবার, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কোটি কোটি নেতাকর্মীর মনে রক্তক্ষরন করেছেন। তিনি আওয়ামীলীগের চেয়ারে বসে বিএনপির রাজনীতি করছেন বলেই প্রতীয়মান হয়। ইতিপূর্বেও তিনি দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে বক্তৃতা দিয়েছেন। তারিক সাহেব শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বলেছেন আওয়ামীলীগ ই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।

তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা তাকে এমন জঘন্যতম বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহবান জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও দলের ও সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে বক্তব্য দিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের প্রতি তারিক সাহেবের সামান্যতম ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ তথা দ্বায়িত্বজ্ঞান থাকলে এমন সবিরোধী বক্তব্য দিতে পারতেন না। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে রাত ১২টার নির্বাচন বলে অভিহিত করে দলকে সঙ্কটে ফেলবার পাঁয়তারা করেছেন। আমরা মনে করি তিনি আ’লীগের লেবাস পরে বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে তার প্রিয়দল বিএনপি ও খুনি জিয়াউর রহমানের দলে যোগ দেয়ার অনুরোধ করছি। অন্যথায় দলের চেয়ার ছেড়ে এমন দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করছি। তার মতো রাজাকার পুত্রের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার আর কোন অধিকার নেই। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে টিআইএম নুরুন্নবী তারিকের বক্তব্য যাচাইপূর্বক অতি দ্রুত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম রেজা, রেজাউল করিম দুলাল, শফিকুল ইসলাম শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খান শরিফ, দপ্তর সম্পাদক আফসার আলী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here