নিয়ামতপুরে “টিকটক ” বানিয়ে যুবক কোটিপতি–সন্দেহের সৃষ্টি জনমনে রহস্য উন্মোচনে কর্তৃপক্ষের নজরদারি কামনায় এলাকাবাসী

0
16

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৩ নং ভাবিচা ইউনিয়নের ডিমা কালাইডাঙ্গা গ্রামের রজব আলীর ছেলে মতিউর রহমান মিটন (২৮) নামের এক যুবক টিকটক(ফানি ভিডিও) তৈরী করে এক বছরের মধ্যে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এই নিয়ে ঐ এলাকার জনমনে নানা সংশয় আর সন্দেহের বীজ বপন হয়েছে। কি ভাবে এই ফানি ভিডিও তৈরী করে রাতারাতি কোটিপতির খাতায় নাম লেখানো সম্ভব তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা, সমালোচনার যেনো হিড়িক পড়ে গেছে

কি করে সম্ভব এক বছরের মধ্যেই দামি গাড়ি, দামি বাড়ি আর ব্যাংক একাউন্টে কোটি টাকার সঞ্চয়।

‘টিকটক’মূলত চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের নিয়ন্ত্রণধীন। এটি বাংলাদেশে চালানো কথটা বৈধস্মত তা হয়তো বা অনেকেরই অজানা। তবে এটি ব্যবহার করা যে বে-আইনি সেটাও কিন্তু না, এটি ব্যবহার যে বেআইনি এমন কনটেন্ট প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাংলাদেশে টিকটক ব্যবহার কারীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি নানান ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী টিকটক ব্যবহার করে অপরাধের কারণে সারা দেশব্যাপি মমলা হয়েছে ১৪ জনের বিরুদ্ধে। টিকটক প্রসঙ্গে কথা বলে গিয়ে গত জুনে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুন বলেন, টিকটকসহ বিতর্কিত অ্যপগুলো নিষিদ্ধ করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন টিকটক লাইকি সহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকরে যারা টাকার পাহাড় গড়ছেন তাদের তালিকা তৈরী হচ্ছে। দেশের এই চলমান টিকটক পরিস্থিতিতে নিয়ামতপুরের আমজনতার মনে নানা সংশয় ও সন্দেহ বিরাজ করছে টিকটক ব্যবহারকারী ও টিকটক ব্যবসায়ী রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার মহানায়ক মতিউর রহমান মিটন কে নিয়ে।

বিগত কয়েকবছর আগেও মতিউর রহমান মিটনের পরিবারের অবস্থা ছিলো নুন আন্তে পান্থা ফুরানোর মত। প্রকৃতপক্ষেই কি টিকটক ব্যবসায়ী মিটন এই টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন? নাকি টিকটকের আড়ালে টুকটাক অন্য কিছু কারবার চলছে এই নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই গ্রামের টিকটক এ্যাকউন্ট আছে এমন দু জনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের তার মধ্যে একজন শিক্ষক, তিনি বলেন কিছুদিন আগেও মিটনের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলোনা টিকটক থেকে এত টাকা উপার্জন করা যায় তা আমি মোটেও বিশ্বাস করতে পারছিনা তবে টিকটক বন্ধ করাটা যে অতিব জরুরী সেই ব্যপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। আমার দুই সন্তান এখন মোবাইল পাগল রাত দিন ২৪ ঘন্টা তারা মোবাইলে টিকটক দেখা নিয়ে ব্যাস্থ থাকে, লেখাপড়ায় একেবারে অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। তাদের কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা টিকটক যেন তাদের নেশায় পরিনত হয়ে পড়েছে।

টিকটিক নিয়ে উপজেলার সরকারি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক এর সহিত যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান টিকটক, ফানী ভিডিও লাইকি সহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ গুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়ছে বেশিরভাগ তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। একেতো তারা এই এ্যাপস গুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, দ্বিতীয়ত টাকা উপার্জনের প্রধান উৎস হিসেবে বেচেঁ নিচ্ছে টিকটক ভিডিও।

যা তাদের মনোবল কে করে তুলছে হিংস্র, এইভাবে আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের মোবাইল এ্যাপস বা টিকটক নিষিদ্ধ না করা গেলে যুব সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়বে। এবং শিক্ষার শতকারা হার বৃদ্ধিতে চরমভাবে আঘাত আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। টিকটিক ব্যবসায়ী মিটন সম্পর্কে আরো ভালো ভাবে বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদক ঐ এলাকায় সরেজমিনে অবস্থান করলে বেরিয়ে আসে আরো কিছু তথ্য বিগত কয়েকমাস আগে টিকটক ব্যবসায়ী মিঠন উপজেলার বরেন্দ্র বাজারের একটি পার্কে রুপা নামের একটি মিয়ের সহিত আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় কিছু লোকজন তাকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে মিটন রুপাকে ভাগ্নি এবং তার টিকটক ভিডিওতে রুপা কাজ করে বলে দাবি করেন এবং আপত্তিকর অবস্থায় সে রুপার সহিত শুটিং করছিল বলে স্থানীয় লোকজনকে জানায় মিঠন। উল্লেখ্য একই এলাকার রহীমউদ্দিন( ৬৫)নামের একজন সচেতন নাগরিক এসময় বলেন, মিটন এখন অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তার উপার্জিত অবৈধ অর্থের ভাগ টা সবাই খায় বলে প্রকাশ্য শে বিভিন্ন রকমের আপত্তিকর এবং নোংরা ভিডিও গুলো তৈরী করছে কিছু বলতে গেলে উল্টো তার নামেই আবার থানায় মামলা দায়ের করে।

বিষয়টি নিয়ে টিকটক ব্যবসয়ী মিঠনের সহিত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায় আমি টিকটক বানিয়ে কেবল মাত্র প্রতিমাস ৫০ লক্ষ টাকা আয় করি অন্য কোন কিছুর সহিত আমার সম্পৃক্ততা নেই। আর টিকটক বানিয়ে যা কামায় করি তার মোটা অংশের একটি টাকা সব মহলের পকেটে প্রতি মাসেই চলে যায় ঐসব ভাবার মত টাইম আমার নেয় আই ডোন্ট কেয়ার। এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহিত যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে বিষয় টি আমার শুনা কথা। তবে তার বা তাদের টিকটকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here