দূর্গা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নিয়ামতপুরে’র মৃৎ শিল্পীরা

0
2
 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
 সোনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমা তৈরী  শেষ করতে দিন রাত সমানে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। দেশে করোনার ভয়াবহতা কিছুটা কমে আসায় এবছর প্রতিটি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা পূজা উৎযাপন কমেটি সহ সংশ্লিষ্টদের।
সোনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকিঁ। এর মধ্যেই নওগাঁর নিয়ামতপুরে বাজতে শুরু করেছে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা।এ বছরে মোট ৬২মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নিয়ামতপুর পূজা উৎযাপন কমেটি।  এর ফলে ৬২টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিমা তৈরীতে এখন মহা ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা।
ইতি মধ্যে দেবীর প্রতিমা নির্মানের কাজ শেষ করেছেন শিল্পীরা। এখন চলছে সর্বশেষ মাটির প্রলেপের কাজ। এরপর রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলবেন প্রতিমার দৃষ্টি নন্দিত রূপ।
এবারে পূজা উৎযাপন  সব ধরণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে পালন করা হবে বলে  জানিয়েছেন নিয়ামতপুর  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ন কবির, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জন বিজয়পুরী।
উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি বাবু ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন বলেন, নিয়ামতপুর উপজেলায় ৬২টি পূজা মন্ডপে পূজা হবে। আমরা ইতি মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে প্রতিটি মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আমরা মিটিং করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের উপজেলায় কোন প্রকার সমস্যা নেই। যেটুক ছিল সেটুকুও আমরা ইতি মধ্যে সমাধান করে ফেলেছি। আগামীতে যে দিনগুলো আসছে সে দিনগুলি সুষ্ঠুভাবে পালন হবে আশা করছি। সপ লক্ষ্য  উপজেলা প্রশাসনের সাথে আমাদেরএকটি সভাও রয়েছে।
সভা হয়ে গেলেই মোটামোটি কাজ শেষ। উপজেলার প্রতিটি মন্ডপের প্রতিমা তৈরী প্রায় শেষ। এখন শুধু রং তুলির কাজ। কিছু কিছু প্রতিমার ইতি মধ্যে রং করা শুরু করে দিয়েছে। এক কথায় উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। করোনার বিষয়ে তিনি বলেন আমরা প্রতিটি মন্ডপের কমিটিকে দিক নির্দেশনা দিয়েছি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, এবং মাস্ক ছাড়া কেউ যাতে আসতে না পারে সে দিকে কঠোরভাবে নজর দারী রাখতে বলে দিয়েছি। মেলার বিষয়ে বলেন, সরকারী যে নির্দেশনা রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করতে বলা হয়েছে। অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির বলেন, আমরা ইতি মধ্যে প্রতিটি পূজা মন্ডপের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাথে মত বিনিময় করেছি।
প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ আমরা সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। প্রতিটি স্তরে আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী তার পেশা দারিত্বের সাথে দক্ষতার সাথে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলা বর্তমান আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
দিন যতই যাচ্ছে ততই ঘনিয়ে আসছে সোনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। আর নিয়ামতপুরে পূজাকে ঘিরে ঢাক ঢোলের আওয়াজে চারপাশ যেন উৎসবের আমেজ বইতে শুরু করেছে। তবে দুবছর ধরে করোনার কারণে কিছুটা ভাটা পড়েছে আনন্দের। পূজার দিনক্ষন কম থাকায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন এখন মাটির কাজ শেস পর্যায়ে। দু’একদিনের মধ্যেই রং তুলির মাধ্যমে মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিমাকে সাজিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌছে দেওয়া হবে।
প্রতিমা শিল্পী জয় রাজ জানান, আমরা মাটির কাজ মোটামুটি শেষ করে ফেলেছি। দুদিন পরে রং এর কাজ শুরু করবো। আরেক প্রতিমা শিল্পী তপন জানান, এবার আমরা যেকটি বানিয়েছি সবকটি শেষ করতে পারলে মোটামুটি লাভের মুখ দেখতে পাবো।
আরেক প্রতিমা শিল্পী রুহিল জানান, জিনিসপত্রের দাম হিসাবে প্রতিমা তৈরীর মজুরি অনেক কম।
প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক টিম থাকবে। সকল প্রকার স্বাস্থ্য বিধি পালনসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে। গত বছর ৫৯টি পূজা মন্ডপে পূজা হয়েছিল। এবার উপজেলায় ৬২টি মন্ডপে পূজা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সরকারী নির্দেশনায় করোনার কারণে এবারে কোন প্রকার মেলা বা জন সমাগম না করতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সামনে দূর্গা পূজা আমাদের কেন্দ্র থেকে এবং জেলা থেকে যে নির্দেশনা দেয় সে নির্দেশনার আলোকে আমরা কাজ করছি। উপজেলায় যাতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে এবং আমাদের সোনাতন ধর্মাবলম্বী যারা আছে তারা যাতে সুষ্ঠু এবং নির্ভিংনে পূজা পালন করতে পারে সে লক্ষে আমাদের সার্বক্ষনিক মনিটরিং অব্যাহত আছে।
পাশাপাশি পূজা যে উৎসব সেটা যাতে সার্বজনীন রূপ লাভ করে এবং জনগণ নির্বিশেষে সবাই যাতে আনন্দ করতে পারে সে বিষয়ে আমাদের নজর আছে। এ বছর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে মোট ৬২টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here