কারেন্ট পোকায় দিশেহারা কৃষক

0
10

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কারেন্ট পোকার প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নওগাঁর নিয়ামতপুরে’র কৃষকেরা

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার সদরের বালাহৈর গ্রামের শিবলালের একবিঘা ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণে। শিবলাল বলেন, এমনিতেই এ বছর যথেষ্ট বৃষ্টি না হওয়ায় পানি সেচ দিতে হয়েছে। তার উপর কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এক বিঘা জমির ধান না পাওয়ার আশংকায় ভূগছেন তিনি।

ভাবিচা আমইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকার জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তিনবার কারেন্ট পোকার জন্য রাসায়নিক বিষ স্প্রে করেছি। এছাড়া তরল বিষ চারবার দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে কিন্তু কোনকিছুতে কাজ হচ্ছেনা না বুঝেই প্রয়োগ করছি বিভিন্ন কম্পানির কীটনাশক । এ বছরে বিষ আর সার প্রয়োগ করতেই প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন খরচ কমানোর জন্য নিজে নিজেই বিষ প্রয়োগ করছি।

একই গ্রামের ফইমুদ্দিন বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে প্রায় প্রতিটি মাঠেই দেখা যাচ্ছে। এ বছর খরচের পাল্লাও বেশি।
এছাড়া উপজেলার হাজিনগর, চন্দননগর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ, মোসলেম উদ্দিন, রহিম বক্স বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আমির আবদুল্লাহ মোঃ ওহেদুজ্জামান বলেন, গত কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় কারেন্ট পোকার আক্রমণ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।

কারেন্ট পোকা এখন আক্রমণ করলেও সমস্যা হবে না কেননা ৭-১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। তাছাড়া কিছু সচেতন কৃষক ছাড়া কারেন্ট পোকার কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন নয়। বিভিন্ন সময় তাদের সচেতন করলেও সঠিকভাবে তারা কীটনাশক স্প্রে না করতে পারায় কারেন্ট পোকার আক্রমণ বাড়ছে। আসলে কারেন্ট পোকার তিনটি জেনারেশন আছে। একেকটি জেনারেশন ১৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। সঠিকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে না পারার কারনে পোকার আক্রমণ বাড়ে।
এ বছর উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৭ হাজার ২৫০ মেট্টিক টন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here