আসন্ন ষষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা

0
8

 

সম্পাদকীয়ঃ

ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় সরকারের মজবুত ও শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান। দেশীয় রাষ্ট্রকাঠামো গণতন্ত্রের শাসন বাস্তবায়নে ইউপি নির্বাচন অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ইউপি নির্বাচনকে পুঁজি ক্ষেত্রে ভিত করতে চায়। কেননা গণতন্ত্রে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জাতীয় সরকার নির্বাচনের সূত্রপাত সৃষ্টি হয়। মূলত; অবাধ গণতন্ত্র চর্চার অন্যতম মাধ্যম হলো সমাজব্যবস্থা। সমগ্র ভূখণ্ডে শুদ্ধ গণতন্ত্র চর্চা মোটেও সম্ভব নয়। নানা বেড়াজালে ভস্ম হয়ে যায়। চলমান আলোচিত ও বহু আকাক্সক্ষার কেন্দ্রস্থল হলো-  ইউপি নির্বাচন। যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদকে বলা চলে গণতন্ত্রের আঁতুড়ঘর, সেহেতু এই নির্বাচনটা হোক প্রতিযোগিতা-নির্ভর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এতে জনসাধারণ তাদের মনোনীত প্রার্থী  খুঁজে পাবে। বস্তুতপক্ষে, আকাক্সক্ষার জায়গায় নানা উদ্রেক ও আপত্তি থেকে যায়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থসিদ্ধ করতে লবিং ও দমন-পীড়নযজ্ঞ অবলম্বন করে। তখনই সরকার প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন উপহার দিতে ব্যর্থ হয়। এতে রাষ্ট্র সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও চরম অবক্ষয়ের শিকার হয়। জনগণ তাদের মনোনীত  প্রার্থীকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হলে তখন এক ধরনের দাসত্ব প্রথার সূচনা ঘটে যায়। যার ফলে গণতন্ত্রকামী জনপ্রতিনিধি চরম দুর্ভাগ্যে আটকা পড়ে। সমাজ তখন চিরাচরিত ভূষণ রক্ষার্থে সম্বল হারা হয়ে যায়। কেননা অযোগ্যরা যখন জনপ্রতিনিধি হয় তখন মূর্খের শাসনের দিকে সমাজ হাঁটতে শুরু করে। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি কোনোটিরই স্থায়িত্ব থাকে না। সমাজ দৌড়াতে থাকে জাহেলিয়াতের প্রাণে।

শিক্ষার অস্তিত্ব, সমতার বণ্টন এবং ন্যায়বিচারের দণ্ড একটিও শুদ্ধ চর্চায় প্রতিষ্ঠিত হয় না। কেবল চক্ষু প্রদর্শনের জন্য উন্নয়নের চিত্রটি বহমান থাকে। গণতন্ত্রের রূপরেখা বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। এ-ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে সমাজকে দুর্ভোগের দিকে না ঠেলে সুষ্ঠু নির্বাচন কায়েম করা খুবই প্রয়োজন। যার ফলে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিরাই নেতৃত্বে আসবে এবং অবাধ গণতন্ত্রের নীতিমালা বাস্তবায়িত হবে। সমাজ তখন নিরাপত্তা, শান্তি ও শৃঙ্খলার দিকে হাঁটতে শুরু করবে।

সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে সক্ষম হবে। অধিকারের ক্ষেত্রে জনসাধারণ সন্তুষ্টির আশ্রয় লাভ করতে পারবে। যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব পালনে প্রাচীর আবৃত হলে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হবে অন্যায়, অত্যাচার ও ঘৃণিত কর্মযজ্ঞ অপতৎপরতা। আকাক্সক্ষার ও চরম উদ্দীপনার এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীর রেষারেষিতে গোপন একটি অঙ্গ সরল অঙ্ক পাতনে চরমভাবে ব্যস্ত থাকে। তারা চায় যেন, কয়েকশ টাকার মধ্য দিয়ে একটি ভোটকে ক্রয় করা যায়।

অর্থলোভী কিছু জনগণ বিশ্বাস করে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ যত টাকা হোক পকেট ভরেছে এতে অধিকার ক্রয় হয়ে গেছে। আর ভাবনার প্রয়োজন নেই, অর্থের বিনিময়ে ভোট নির্বাচন হস্তদ্বয় স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে। অথচ তারা বুঝতে পারে না কয়েক টাকার বিনিময়ে দীর্ঘ পাঁচটি বছরের অযোগ্য নেতৃত্বকে নেতৃত্বের আসনে পাকাপোক্ত করা হলো।

যে অর্থ পাঁচ বছরের অধিকার কেড়ে নেয়, সে অর্থের লালসা আদৌ কি মঙ্গল হতে পারে। তাই সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ থাকবে আবেগের প্ররোচনায় অর্থের লালসা না করিয়ে বিবেকের মানদণ্ডে একজন যোগ্য ও সৎ প্রার্থী সমাজকে উপহার দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here